1. mistupoddar056@gmail.com : Bangla : Bangla
  2. admin@jatiyokhobor.com : jatiyokhobor :
  3. suhagranalive@gmail.com : Suhag Rana : Suhag Rana
বুধবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২১, ০৪:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ধন্যবাদ জানাই  গুগলকে আমাদের প্রচেষ্টাকে সম্মান করার জন্য পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গতিবিধি থেকে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিজ্ঞানিরা করোনার ভ্যাকসিনের বিশ্বব্যাপী বিতরণ শুরু দ্রুত ভ্রমণের জন্য মহাকাশে হাই বে পথও আছে ভিটামিন ডি করোনার মৃত্যুর ঝুঁকি হ্রাস করে গবেষণায় জানা গেছে জীবনের অনেক চিহ্ন এখনও মঙ্গল গ্রহের পরিবেশে বিদ্যমান অক্সিজেনের সাহায্যে বয়সকে মাত দিতে চলেছেন বিজ্ঞানিরা এর ডানার বিস্তার ছিল বিশ ফুট ছিলো প্রাগতৈহাসিক যুগে গুরু এবং শনি একে অপরের নিকটে আসছে হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী নিশির সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সেক্রেটারি লেখকের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রাশিয়ান বিজ্ঞানী কে হত্যা করা হয়েছে করোনার ভ্যাকসিনের সাথে যুক্ত ছিলেন গুদামে সরবরাহিত চিনি জেলা প্রশাসক অফিসে জানানো হবে মানসিক হয়রানি তদন্ত এবং দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া ভারতীয় সেনাবাহিনীর ইউনিফর্ম পরিবর্তন করা হবে চিকিত্সার অভাবে মারা গেল লাপুংয়ের কেওয়াত টালির দরিদ্র শ্রমিক

মা-বাবা হারানো শিশুদের ভিক্ষা করে মানূষ করছেন দাদূ দিদিমা

Reporter Name
  • পোষ্ট করেছে : Sunday, 15 March, 2020
  • ৬৯ জন দেখেছেন
মা-বাবা হারানো শিশুদের ভিক্ষা করে মানূষ করছেন দাদূ দিদিমা
  • নিজের অন্য ছেলেরা কষ্টের সময় ছেড়ে চলে গেছে

  • এক ছেলে দিল্লী যাবার পরে আস ফিরে আসেনি

  • কোন রকমের সরকারী সাহায্য পায় নি এরা

মালদাঃ মা-বাবা হারানো ১৩ জন নাতি নাতনিকে মানূষ করতে হিমশিম খাচ্ছে বৃদ্ধ দাদূ-দিদিমা।

এমনকি দিনের পর দিন অর্ধাহারে থাকার কারণে হাড় জিরজিরে শিশুদের রোগাক্রান্ত অবস্থায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রেলের জমিতে একচিলতে চাটাই ও পলিথিন খাটিয়েই রয়েছেন বৃদ্ধ দম্পতি রবিন শীল এবং কালিদাসী শীল।

অভাবের কারণে তাদের এখন ১৩ জন নাতি-নাতনিকে মানুষ করায় চরম সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকবার জানিয়েও সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত এবং প্রশাসন থেকে মেলে নি কোন সরকারি সাহায্য।

এমনকি বয়স জনিত কারণে তারা সরকারি বার্ধক্য ভাতাও পান না বলে অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধি শীল দম্পতি।

এই অবস্থায় ওই ছোট ছোট নাতী-নাতনীদের নিয়ে কিভাবে বাকি জীবন কাটাবেন তা এখন বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃদ্ধ ওই শীল দম্পতির কাছে।

পুরাতন মালদা ব্লকের মঙ্গলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েতের নলডুবি রেল কলোনি এলাকায় এক চিলতে অস্থায়ী ঘর বানিয়ে থাকেন বৃদ্ধ রবিন শীল এবং স্ত্রী কালীদাসী শীল। তাদের চার ছেলে দুই মেয়ে।

এর মধ্যে বড় ছেলে গোপাল এবং তার স্ত্রী মধুমিতা শীল দীর্ঘদিন আগেই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। গোপালবাবুর তিন নাবালক ছেলে মেয়ে রয়েছে।

মা-বাবা হারানো এই তিন ছাড়াও  পাশাপাশি বৃদ্ধ রবিন শীলের এক মেয়ে পুতুল শীল। তারও নাবালক তিন ছেলেমেয়ে বর্তমান।

এছাড়াও ওই বৃদ্ধ দম্পতির আরেক ছেলে নেপাল শীল নাবালক ছয় ছেলেমেয়ে রয়েছে।

কিন্তু নেপাল শীল দীর্ঘদিন আগেই দিল্লিতে কাজ করতে গিয়ে আর ফিরে আসে নি।

রবিনবাবুর ছোট ছেলের আরো একটি নাবালক সন্তান রয়েছে।

কিন্তু বর্তমান ওই শিশুদের কেউ দেখে না।বলতে গেলে এরা সবাই বর্তমানে মা-বাবা ছাড়াই আছে।

তাই বৃদ্ধ রবীন শীল ও তার স্ত্রী কালীদাসী শীলের কাছেই এখন তার নাতি নাতনিকে মানুষ করাটাই চরম সংকটের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।

অভাবের তাড়নায় মা-বাবা হারানো নাতি-নাতনিদের লেখাপড়া শেখাতে পারছেন না তারা।

ভিক্ষাবৃত্তি করে যতটুকু আয় হয় তা দিয়ে নিজেদের পাশাপাশি ১৩ জন শিশুর পেট ভরানো দুস্কর হয়ে উঠেছে।

এই অবস্থায় পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের সাহায্যের দরবার করেছেন বৃদ্ধ ওই দম্পতি।

মা-বাবা মারা যাবার পরে খাবারের চিন্তা

নইলে এই শিশুদের নিয়ে বেঁচে থাকাটাই অসম্ভব ব্যাপার হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধ শীল দম্পতি।

রবিবার ছুটির দিনের সকালে ওই বৃদ্ধের বাড়িতে গিয়ে দেখা গেলো ভাঙ্গাচোরা চাটায়, পলিথিন মোড়ানো মাটির বাড়িতেই অ্যালোমোনিয়ামের থালা নিয়ে খিদের জ্বালায় ছটফট করছেন শিশুরা।

বৃদ্ধা কালীদাসী ভিক্ষে করে নিয়ে আসা চাল সিদ্ধ করে তাদের এক মুঠো ভাত দেওয়ার ব্যবস্থা করছেন।

নাতি-নাতনিদের পাশে বসেছিলেন বৃদ্ধ রবিন শীল।

তিনি বলেন, বড় ছেলে, বৌমা মারা গেল। বাকি ছেলেমেয়েরা আর আমাদের দেখে না।

এখন এতগুলো নাতি-নাতনিদের নিয়ে কোথায় যাবো, কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

এভাবে আর কতদিন চলবে। ভিক্ষা করে যতটুকু রোজগার হয় তা দিয়ে এক বেলা পেট পুরে খেতে পারি না।

তার ওপর এতগুলো নাতি-নাতনীকে খাবার যোগাতে দিশেহারা অবস্থা।

মঙ্গলবাড়ী গ্রাম পঞ্চায়েত এবং ব্লক প্রশাসন থেকে কোনরকম সাহায্য পাই নি। বয়স জনিত কারণে বার্ধক্য ভাতা মেলে নি।

বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে বাড়ি তৈরি করে দেওয়া অথবা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কোন কিছুই আমরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারি নি।

বৃদ্ধ রবিনবাবুর আক্ষেপ, ভোট আসে, ভোট যায়। নেতারা অনেক প্রতিশ্রুতি দেন। অনেক আশা নিয়ে ভোট দিই। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলে সবই ওরা ভুলে যায়।

এখন আমার এই নাতি-নাতনীদের দু-বেলা খাবারের জন্য প্রশাসনের দিকেই চেয়ে আছি। কবে ওদের পেট ভরে খেতে দিব তাও ঠিক জানি না।

বৃদ্ধা কালীদাসী শীল বলেন, ছেলেমেয়েদের কোলে পিঠে মানুষ করলাম। আর ওরা আমাদের ছেড়ে চলে গেল। বড় ছেলে ও তার স্ত্রী তো অনেকদিন আগেই মারা গেছে।

সকলের সন্তানেরা এখন আমাদের কাছে মানুষ হচ্ছে। ১৩ জন নাতি-নাতনিকে আমাদের মত দুঃস্থ পরিবারের পক্ষে মানুষ করা অত্যন্ত কষ্টদায়ক।

ভিক্ষা করে নিজেদের পেটি ভরাতে পারছি না। এতগুলো নাতি নাতনিকে কি করে মানুষ করবো। ওরা তো পড়তে চাই। কিন্তু অভাবের তাড়নায় পড়াতে পারি না।

আমাদের অবর্তমানে এই বাচ্চাদের কি হবে জানি না

জানি না আমাদের অবর্তমানে এই নাতি-নাতনিদের কি অবস্থা হবে। চোখের জল ফেলে নিজেদের সমস্যা মেটাতে পারি নি।

পঞ্চায়েত ও প্রশাসনের কাছে অনেক আর্জি করেছি। অথচ এতোটুকু সরকারি সাহায্য পাই নি। তবুও আমাদের ভরসা দিদিমণি

উনি বলেছেন গরিবের পাশে দাঁড়াতে হবে। তাই আজও পঞ্চায়েত প্রশাসনের দিকে তাকিয়ে রয়েছি। কবে সরকারি ভাতা পাব, আর সাহায্য মিলবে।

তা দিয়ে হয়তো ছোট ছোট নাতি-নাতনিদের দু’মুঠো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবো। জানি না আমাদের পর নাতিনাতনীদের ভবিষ্যৎ কি হবে।

ওই বৃদ্ধ দম্পতির পরিবারের এক নাবালিকা মালতি শীল বলেন, অভাবের সংসার আমাদের দাদু-দিদিমার বয়স হয়েছে।

কতদিন উনারা ভিক্ষা করে আমাদের মানুষ করবে জানি না। দুবেলা খাবার ঠিকমতো পাই না।

পড়াশোনার ইচ্ছা আছে, কিন্তু ভিক্ষা না করলে খাবার জুটবে না। তাই পড়তেও পারি না। ভাই-বোনেরা খাবার জন্য কান্নাকাটি করে।

ওদের চোখের জল দেখেই আমিও দাদু দিদিমার সাথেই ভিক্ষাবৃত্তির করছি। ভবিষ্যৎ আমাদের কি হবে জানি না। ভগবানই ভরসা।

ঘটনা শুনে অবাক হয়েছেন মৃণালিনী মন্ডল মাইতি

এদিকে শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হতেই রীতিমতো হতবাক হয়ে গিয়েছেন পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালিনি মন্ডল মাইতি।

তিনি বলেন, এরকম ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানা ছিল না। যদিও এব্যাপারে তদারকি করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট এলাকার পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের।

তবে আমি ওই পরিবারের অবস্থার কথা শোনার পর সবরকম ভাবে সাহায্যের আশ্বাস দিচ্ছি।

রাজ্য সরকার দুঃস্থ মানুষদের জন্য প্রচুর সরকারি সুযোগ-সুবিধা করে দিয়েছে।

আর সেই সুযোগ সুবিধার অন্তর্ভূক্ত অবশ্যই ওই পরিবারটিকে করা হবে।

আমি ওই পরিবারের সঙ্গে গিয়ে দেখা করব। সমস্যার কথা শোনার পাশাপাশি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করব।

পুরাতন মালদার বিডিও ইরফান হাবিব জানিয়েছেন, এই ঘটনা সম্পর্কে আমার কিছু জানা ছিল না।

যদি এমনটাই হয়ে থাকে তবে খুব দুর্ভাগ্যজনক।

ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই শীল পরিবারকে সমস্ত রকম ভাবে সহযোগিতা করা হবে।

মা-বাবা না থাকা শিশুদের শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ব্রেকিং নিউজ
Bengali English Hindi